এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
সারাদেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ এখন সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২২৯ জনের শরীরে হামের সন্দেহজনক উপসর্গ পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনের শরীরে। গত এক দিনে নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে ১২৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে সংক্রমণের এই বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।হাসপাতালে ভর্তির হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৯৯৮ জন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৯২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশন ও সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সুস্থতার হার আরও বাড়ানো সম্ভব।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৫ শিশুর প্রাণহানি ঘটলেও নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে সন্দেহজনক হামে এ পর্যন্ত ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই মৃত্যুহার বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের তীব্রতা ও জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন