বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ দ্বীপে বৃষ্টির পর রক্তলাল হলো মাটি ও সমুদ্রের পানি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম

হরমুজ দ্বীপে বৃষ্টির পর রক্তলাল হলো মাটি ও সমুদ্রের পানি

ইরানের হরমুজ দ্বীপে সম্প্রতি এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ভারি বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা স্রোত উপকূলীয় সমুদ্রের পানিকে গাঢ় লাল বা রক্তবর্ণে রূপান্তর করছে।

এই দৃশ্য দেখে অনেকেই একে ‘রক্তের স্রোত’ বা ‘রক্ত বৃষ্টি’ বলে অভিহিত করছেন।ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রক্তবর্ণ ধারণের কারণ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এর পেছনে রয়েছে দ্বীপটির অনন্য মাটির গঠন।

হরমুজ দ্বীপটি লৌহ অক্সাইড সমৃদ্ধ লাল মাটির জন্য বিখ্যাত, যা স্থানীয়ভাবে ‘গোলাক’ নামে পরিচিত।দ্বীপের প্রধান লাল রঙের উৎস হলো লৌহ অক্সাইড বা হেমাটাইট।

এই খনিজটি সবুজ ও নীল আলো শোষণ করে এবং লাল আলোকে প্রতিফলিত করে। প্রবল বৃষ্টির সময় এই লাল মাটির কণাগুলো পানির সাথে মিশে সাগরে গিয়ে পড়ে, যার ফলে সমুদ্রের বিশাল অংশজুড়ে লাল আভা তৈরি হয়।হরমুজ দ্বীপটি তার রঙিন খনিজ মাটির জন্য বিশ্বজুড়ে ‘রেইনবো আইল্যান্ড’ বা রামধনু দ্বীপ নামে পরিচিত। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে এখানে শেল, কাদামাটি, আগ্নেয় শিলা এবং ৭০টিরও বেশি খনিজের স্তর তৈরি হয়েছে, যা এই দ্বীপটিকে ভূ-তাত্ত্বিক দিক থেকে অনন্য করে তুলেছে।

মাটির কারণে হরমুজ দ্বীপে এমন দৃশ্য নিয়মিত হলেও বিশ্বের অন্য স্থানে ভিন্ন কারণে পানি লাল হতে দেখা গেছে। গত আগস্টে ইসরায়েলের গ্যালিলি সাগরের পানি উজ্জ্বল লাল রঙ ধারণ করেছিল। তবে ইসরায়েলের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, সেখানে মাটির কারণে নয়, বরং নির্দিষ্ট ধরণের সবুজ শৈবালের অতিরিক্ত বিস্তারের ফলে পানি লাল দেখাচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ছিল না।হরমুজ দ্বীপের এই দৃশ্য পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটকরা সৈকতের সেই লাল পানির ওপর দিয়েই হাঁটছেন এবং মাটির নিচের স্তরেও যে লাল রঙের খনিজ রয়েছে তা খুঁড়ে দেখছেন।