জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি করতে একটি প্রভাবশালী ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার ১৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এই বোর্ডে বিশ্বের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাত সদস্যের এই প্রাথমিক তালিকায় রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এছাড়া অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাকেও এই বোর্ডে রাখা হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই শক্তিশালী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে এই বোর্ডে মোট সদস্য সংখ্যা হবে ১৫ জন এবং বাকি সদস্যদের নাম শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। ট্রাম্প এই পর্ষদকে বিশ্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ’ বোর্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ২০২৫ সালের শেষের দিকে ট্রাম্প গাজা সংকট সমাধানে যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন এটি তারই দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। এই পরিকল্পনার আওতায় একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সংস্থা গাজার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করবে যাদের কাজ সরাসরি তদারকি করবে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’।
এই বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। এছাড়া জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করবেন। ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইতিমধ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই ধাপে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পুনর্গঠনের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
যদিও গাজার সাধারণ বাসিন্দারা এই নতুন পর্ষদ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে প্রথম পর্যায়ের অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি এবং চলমান হামলার মুখে নতুন কোনো চুক্তির সাফল্য নিয়ে তারা সন্দিহান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও টনি ব্লেয়ারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সমালোচনা করছেন তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে এই হাইপ্রোফাইল বোর্ড গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন