জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে এবং বৈশ্বিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘকে অনেকটা পাশ কাটিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা চালু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এই বোর্ডটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় যেখানে ট্রাম্প নিজেই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এই উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো দ্রুত সাড়া দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পশ্চিমা মিত্ররা এখনো বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি এই বোর্ড পুরোপুরি কাজ শুরু করলে তারা প্রায় যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হবে এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এমন উদ্যোগের ফলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে জাতিসংঘের প্রধান্য এবং নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় এই বোর্ডের প্রতিটি স্থায়ী সদস্যকে এক বিলিয়ন ডলার করে তহবিলে জমা দিতে হবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন যে তারা এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা রুশ সম্পদ থেকে নির্ধারিত অর্থ দিতে প্রস্তুত আছেন।
তবে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স সরাসরি এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ব্রিটেন আপাতত পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেনি যা ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।বোর্ড অব পিসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা জানিয়েছেন বোর্ডের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে গাজার পুনর্গঠন এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা। জ্যারেড কুশনারের মতে হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কারণ ফিলিস্তিনি কমিটির প্রধান আলি শাআথ জানিয়েছেন আগামী সপ্তাহে মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হতে পারে।
তবে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরাইলি বাধা এবং হামাসের কাছে জিম্মিদের অবস্থান নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্পের এই বোর্ড অব পিস গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো জটিল ইস্যুগুলোতে কতটা সফল হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত এটি জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দাঁড়াবে নাকি কেবল ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন