বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের নির্দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক জরুরি বার্তায় সৌদি আরব এবং কাতারসহ এই অঞ্চলের এক ডজনেরও বেশি দেশ থেকে নাগরিকদের দ্রুত প্রস্থান নিশ্চিত করতে বলেছে। 

তবে ওই অঞ্চলে বর্তমানে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় মার্কিন নাগরিকরা কীভাবে ফিরবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সোমবার স্থানীয় সময় এই নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়। এর আগে বিভিন্ন দেশের জন্য আলাদা করে সতর্কতা দেওয়া হলেও এবারের ঘোষণাটি সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এই নির্দেশনার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন এবং ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরাহ নামদার জানিয়েছেন যে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি অত্যন্ত ভয়াবহ। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকদের হাতের কাছে থাকা বাণিজ্যিক যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এখনই ওই অঞ্চল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। সাধারণত সরকারি নীতিগত ঘোষণা পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব প্রথাগত প্রক্রিয়ায় দেওয়া হলেও এবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে দ্রুত ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে অস্বাভাবিক এবং পরিস্থিতির গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ ব্যবহার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ যাত্রী আটকা পড়েছেন। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে কর্মীরা কূটনৈতিক প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছেন। গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রাণহানির পর তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, এই সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।