মার্চ ৩, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের গণমাধ্যম ও দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক রাডার এএন/এফপিএস-১৩২ ধ্বংস করেছে।
প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাডারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ট্র্যাক করার জন্য আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি সক্ষমতা সম্পন্ন এই রাডারটি নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
কাতার ভিত্তিক এই মার্কিন রাডারটি ২০১৩ সালে স্থাপন করা হয়েছিল যা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাটল তৈরি হলো। যদিও পেন্টাগন বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়নি। তবে কাতারের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে, রাডারটি অকেজো হওয়ার তথ্য স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের মাত্রা এখন চরমে। ইসরাইলের ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরান শুরু করেছে ‘অপারেশন ট্রু প্রোমিস ৪’। ইরানের রাজধানী তেহরানে যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর থেকেই বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের লড়াইয়ে দেশটিতে অন্তত ৭৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাত কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে শুরু করেছে।
উভয় পক্ষের এমন মারমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্ব পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন, যার ফলে এই সংঘাতের দ্রুত অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত স্থানে এই হামলা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধের সীমানা এখন কেবল ইরান বা ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটের নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে যা বিশ্বনেতাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন