মার্চ ৫, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
তুরস্কের আকাশসীমার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবরটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ। এর আগে তুরস্ক দাবি করেছিল যে, তাদের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তবে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান প্রতিবেশী দেশ তুরস্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে দুই প্রতিবেশী দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরাক ও সিরিয়ার ওপর দিয়ে উড়ে তুর্কি আকাশসীমার একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
সেটিকে সময়মতো আটকে দেওয়ায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, তাঁরা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ করছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এরদোয়ান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তুরস্ক তার সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো আপস করবে না।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ষষ্ঠ দিনেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত রাতে ইরান সরাসরি ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে তাদের বোমাবর্ষণ জোরদার করেছিল। লেবাননেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। লেবানিজ কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের কারণে ইতিমধ্যে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন যা একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেল আবিব ও জেরুজালেমে ধেয়ে আসা ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান থেকে রকেট ছোড়ার পরিমাণ কিছুটা কমে আসায় ইসরাইল তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। তবে তেহরানে আজও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তুরস্কের মতো তৃতীয় পক্ষগুলোর ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন