সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস

ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন রাডার

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মোতায়েন করা এই রাডারটি অচল হয়ে যাওয়ায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রবস্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ রাডার ব্যবস্থার ওপর ইরানের এই হামলাটি এখন পর্যন্ত তাদের অন্যতম সফল অভিযান হিসেবে বিবেচিত হবে। টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাটি সাধারণত উচ্চমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। 

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে তাদের কাছে বিকল্প রাডার ব্যবস্থা রয়েছে যা দিয়ে সাময়িকভাবে এই শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।সিএনএন প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে যে জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা এই রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জামগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয় যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি বড় ধরনের হামলা চালায় ইরান।

 

প্রাথমিকভাবে ওই হামলাগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসে। এএন/টিপিওয়াই-২ মডেলের এই রাডারটি অচল হয়ে পড়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার পুরো দায়িত্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এসে পড়েছে।তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানিয়েছেন যে সিউল ও ওয়াশিংটন এই মোতায়েনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করায় বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র:রয়টার্স