মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজার পরপরই এই হামলার খবর সামনে আসে।
গত বছর ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের সময়েও হাইফার এই কৌশলগত স্থাপনাটি আক্রমণের শিকার হয়েছিল।হামলার তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এছাড়া আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়েও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গত বুধবার ভোরে ইরান ও কাতারের মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স-এর একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়।
সেই হামলার জবাবেই ইরান এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে আগুনের কথা উল্লেখ করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব কেবল ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি ক্ষেত্রেও ইরান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে কাতারের বিখ্যাত রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লেগেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স ও আল-জাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন