মার্চ ২৬, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
দিল্লির একটি বিশেষ আদালত বাংলাদেশি নাগরিক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তকে ১১ দিনের জন্য জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হেফাজতে পাঠিয়েছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডের মাধ্যমে তাদের নয়া দিল্লিতে আনা হয় এবং গত মঙ্গলবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করা হয়।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং পরে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টার সময় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রশান্ত শর্মা শুনানি শেষে আসামিদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১১ দিনের এনআইএ হেফাজত মঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী আদালতে যুক্তি দেন যে অভিযুক্তরা যেভাবে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছে তার পেছনে কেবল আত্মগোপন নয় বরং কোনো বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বা নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে। আদালত মামলার বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে প্রাথমিক প্রশ্ন তুললেও তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনায় রিমান্ডের আবেদন গ্রহণ করেন। গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ মনে করছে যে আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতা এবং ভারতে তাদের আশ্রয়দাতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি অটোরিকশায় ভ্রমণকালে গুলিতে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ভারতীয় তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি যে এই হত্যাকাণ্ডটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা নয়। বরং এর পেছনে আন্তঃরাষ্ট্রীয় কোনো অপরাধী চক্র বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগসূত্র থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এনআইএ এখন খতিয়ে দেখছে যে মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে কারা তাদের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে।
এই মামলাটি বর্তমানে দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন যে অভিযুক্তরা ভারতে অবস্থানকালে নতুন কোনো নাশকতার ছক তৈরি করছিল কি না। ফলে তাদের চলাচলের পুরো নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করা এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী ১১ দিনের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হাদি হত্যার প্রকৃত রহস্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন