বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

ভূমধ্যসাগরে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু, উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

ভূমধ্যসাগরে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু, উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

উত্তাল ভূমধ্যসাগর

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন একদল অভিবাসী। দীর্ঘ ছয় দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকার পর ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যে গ্রিক কোস্টগার্ড ২১ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। 

শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন বলে জানা গেছে।গ্রিস কোস্টগার্ড জানায় যে ক্রেটা দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ বিপদে পড়া অভিবাসীদের উদ্ধার করে। 

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি ছাড়াও চারজন দক্ষিণ সুদানি এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। সমুদ্রযাত্রার বিভীষিকা বর্ণনা করতে গিয়ে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান যে যাত্রাপথে যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে অভিবাসীবাহী ওই নৌকাটি গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। মাঝ সমুদ্রে তারা দিক হারিয়ে ফেললে চরম সংকট তৈরি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ছয় দিন ধরে কোনো খাবার বা পানীয় ছাড়াই তারা ঢেউয়ের তোড়ে ভাসছিলেন। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার দায়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এই পথে অন্তত ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে যে উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা এবং পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য এই মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। ক্রেটা দ্বীপের দক্ষিণে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই উদ্ধার অভিযানও বেশ কঠিন ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।