এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:১২ এএম
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপোতে আবারও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সংঘটিত এই হামলায় বিমানবন্দরের বিশাল একটি অংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হামলার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল বলে জানা গেছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনাকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি ঘটনার বিস্তারিত জানান।
তাঁর ভাষায়, কুয়েত অ্যাভিয়েশন ফুয়েলিং কোম্পানির মালিকানাধীন জ্বালানি ট্যাংকিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ড্রোন হামলার পরপরই ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বুধবার জানানো হয়েছে যে ড্রোনগুলো নির্দিষ্টভাবে জ্বালানি মজুত করার স্থানগুলোকে আঘাত করেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের দেশে ইরানি ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে।
সেখানেও একটি শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা তা নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুসারে কুয়েত প্রশাসন মনে করছে যে তাদের প্রধান এই বিমানবন্দরটি এখন ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।ঘটনার পর কুয়েত সিটির বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান ত্রিদেশীয় যুদ্ধের আঁচ এখন সরাসরি কুয়েতের মতো শান্ত দেশগুলোতেও লাগছে।
এর আগেও কুয়েত বিমানবন্দরে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছিল। সেই সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা এবং টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। কুয়েত সিটিতে ইদানীং প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধের সতর্ক সংকেত বা সাইরেন শোনা যাচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আপাতত বিমান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হলেও কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে।
কুয়েতের এই জ্বালানি ডিপোতে লাগা আগুন পুরোপুরি নেভাতে কতক্ষণ সময় লাগবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে কোনো ধরণের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সরকারি বিবৃতির ওপর আস্থা রাখতে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ প্রবাসীরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন