এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
চলমান ইরান সংকট ও সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে হামলা আরও তীব্র ও জোরদার করার ঘোষণা দেন। বেইজিং মনে করে, কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে কোনো সংকটেরই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না। চীন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি পশ্চিমী দেশগুলোকেই দায়ী করা হয়েছে। মাও নিং উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার মূলে রয়েছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত আক্রমণ।
চীন মনে করে, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের আক্রমণাত্মক নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ভাষণে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানে কোনো ধরনের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য নয়। বরং দেশটির সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা ও ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের আসল উদ্দেশ্য।
ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালী খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। একই সাথে তিনি ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এই দেড় মাসেরও কম সময়ে ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এর জবাবে ইরানও বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে জর্ডান ও ইরাকের মতো দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপট বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন