শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:১১ এএম

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর ফি বা টোল আরোপ করে ইরান অত্যন্ত ‘খারাপ’ আচরণ করছে। 

ট্রাম্পের মতে, তেহরানের এমন পদক্ষেপ বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি পরিপন্থী। শুক্রবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যদি সত্যিই জাহাজগুলো থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করে থাকে, তবে তা এখনই বন্ধ করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মাত্র দুই দিন আগে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর শান্তিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। 

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরান যদি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই প্রণালিটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর থেকেই এই রুটে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে। 

বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ থেকে ইউয়ান বা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে ফি আদায়ের গুঞ্জন ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ইরান ফি আদায় বন্ধ না করে তবে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও সামরিক অভিযানের পথে হাঁটতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে ‘সতর্ক’ করার পাশাপাশি আবারও ‘ভয়াবহ গোলাবর্ষণের’ প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন।জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। 

এই পথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা অনিরাপদ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের পেছনে মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চাপ কাজ করছে। অন্যদিকে তেহরান তাদের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব হিসেবে এই রুটটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের এই টুইট কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন সংশয় তৈরি করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।