শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের সংখ্যা বেঁধে দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের সংখ্যা বেঁধে দিল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে কঠোরতা

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন কয়টি জাহাজ চলাচল করবে তার সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি পাবে। 

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া একটি ইরানি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম তাস। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজস্ব প্রটোকল এবং আইআরজিসি তথা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। 

তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, সংঘাতের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ এই বাণিজ্য পথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে। বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার ক্ষেত্রে ইরান কয়েকটি শর্তও জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো পশ্চিমা দেশগুলোতে আটকে থাকা ইরানের অর্থনৈতিক সম্পদ দ্রুত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত করতে হবে।কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। 

এ ছাড়া সংঘাতের স্থায়ী অবসানের জন্য ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দাবি করেছে। তাদের মতে, কেবল মৌখিক চুক্তিতে পূর্ণ বিশ্বাস রাখা সম্ভব নয়। যদি তাদের দেওয়া শর্তগুলো যথাযথভাবে মানা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আগের চেয়ে আরও জোরালো এবং বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার হুমকি দিয়েছে তেহরান।এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে তাদের সেনা সংখ্যা বাড়াতে পারবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। 

সেই সাথে তারা পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে তারা আগের আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো মেনে চলবে। উল্লেখ্য যে, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। গোটা বিশ্ব এখন সেই আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছে।