এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান স্পর্শকাতর আলোচনায় মধ্যস্থতা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ইসলামাবাদ অত্যন্ত গঠনমূলক অবস্থান নিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকেই এই সহযোগিতার জন্য পাকিস্তান সরকার ও জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মুখপাত্র বাকেই বলেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের উপায় নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে।
ইরানি প্রতিনিধিদলটি এরই মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করেছে বলে জানা গেছে। আলোচনা প্রসঙ্গে ইসমাঈল বাকেই উল্লেখ করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে। তবে আলোচনার টেবিলে বসার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের প্রতি নিজেদের পুরনো অবিশ্বাসের কথাও স্পষ্ট করেছে তেহরান।
বাকেই তাঁর বার্তায় বলেন, ইরান সবসময় কূটনৈতিক পথকে তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা কঠিন। ইরানের বৈধ অধিকার মেনে নেওয়া এবং অতিরিক্ত দাবি থেকে সরে আসার ওপরই এই আলোচনার চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করছে বলে তিনি মনে করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ সীমিত হওয়ায় পাকিস্তানের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা প্রশমনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এই সফল আয়োজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের কৌশলগত গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন