শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে বড় ধরনের কূটনৈতিক মোড় নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পর্ক। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে সামনে রেখে আগামী রবিবারই দুই দেশের প্রভাবশালী আলোচনাকারীরা পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারেন।মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার সময়সূচি এখনো নিশ্চিত করা না হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। 

অ্যারিজোনার ফিনিক্সে ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-র একটি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে অনেক ভালো কিছু ঘটতে চলেছে। ট্রাম্পের মতে, ইতিমধ্যে বেশিরভাগ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সম্মতি অর্জিত হয়েছে, যার ফলে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। 

তবে আলোচনার এই আবহকে ঘিরে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি কঠিন আল্টিমেটামও এসেছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আগামী বুধবারের মধ্যে যদি কোনো টেকসই চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি বাতিল করা হবে এবং দুর্ভাগ্যবশত মার্কিন বাহিনীকে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে হতে পারে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নৌ-অবরোধ ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দ্বিপাক্ষিক লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন হয়।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধের সুর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান স্থায়ীভাবে প্রণালিটি খোলা রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই খোলা রাখা হবে না এবং এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া একটি শর্তসাপেক্ষ বিষয়, যা মূলত বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ, যদি ওয়াশিংটন তাদের অবরোধ প্রত্যাহার না করে বা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হয়, তবে ইরান আবারও এই নৌপথটি বন্ধ করে দিতে পারে। এমন এক জটিল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার পাকিস্তানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হতে চলেছেন। বুধবারের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা আসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা।