এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
সাময়িক সময়ের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে তেহরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল আম্বিয়া’ এক জরুরি বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।ইরানি সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ মূলত ‘জলদস্যুতার’ শামিল।
এর প্রতিবাদ হিসেবেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের কঠোর অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই জলপথের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চলাচল ইরানের সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং ইরানের বন্দরে আসা জাহাজগুলোর পূর্ণ চলাচলের স্বাধীনতা যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত না করবে, ততক্ষণ এই অবরোধ কার্যকর থাকবে।
উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার দীর্ঘ আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী নতুন চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ কোনোভাবেই তোলা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই ইরান পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি ও তেলের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রণালিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। মাঝে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও নতুন করে এই অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে আবারও তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ইরানের এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন