এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের প্রতি একটি বিশেষ জরুরি আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আট ইরানি নারী বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য ইরানের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই আরজি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক ও সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বার্তায় সরাসরি ইরানি নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, ‘দয়া করে তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না।’ ট্রাম্প এই বার্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসরায়েলপন্থি অধিকারকর্মী ইয়াল ইয়াকোবির একটি পোস্টও শেয়ার করেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ওই আট নারী বন্দিকে ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
যদিও এই তথ্যটি এখনও কোনো স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে আলোচনার আগে ট্রাম্পের এই মানবিক আবেদনকে বড় ধরণের কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।এই অনুরোধের নেপথ্যে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা, যা ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সম্মতি জানায়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিতে হবে।উল্লেখ্য, বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল বাহিনীর মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
গত রোববার হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আবারও আগ্রাসন শুরু করেছে, যার ফলে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার মঙ্গলবার রাতে এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, ইরানকে বৈঠকে রাজি করাতে ইসলামাবাদ নিরন্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ট্রাম্প যেমন চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন, তেমনি সামরিক শক্তির হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়টিতে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের সরঞ্জাম পুনরায় গুছিয়ে নিয়েছে এবং নির্দেশ পেলে তারা আবারও হামলা শুরু করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকেও কড়া জবাব এসেছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন যে, ইরানের হাত ‘ট্রিগারেই’ রয়েছে এবং যেকোনো আক্রমণের কঠোর জবাব দিতে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আলোচনার এই শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের মানবিক আবেদন ও দুই দেশের সামরিক রণহুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন