শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ল

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান যে ওয়াশিংটনের বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই সংঘাত বন্ধের নতুন এই সময়সীমা নির্ধারিত হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই মেয়াদ বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হলো ইসরাইল এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘ সময়ের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের স্থায়ী অবসান ঘটানো। ওয়াশিংটনে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল যা আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। 

তবে নতুন করে তিন সপ্তাহের সময় পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউস সফর করবেন। সেখানে তারা একটি টেকসই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করবেন। ট্রাম্পের মতে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে হিজবুল্লাহর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে এবং নিজেদের রক্ষা করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা প্রশমনে এবং যুদ্ধবিরতি তদারকি করতে ওই অঞ্চলে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এই অতিরিক্ত সময় ও কূটনৈতিক চাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়টিকে দুই দেশ যেন স্থায়ী শান্তিচুক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে।

গত সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই লড়াইয়ে ইসরাইল এবং লেবানন উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সাময়িক বিরতিকে স্বাগত জানালেও হিজবুল্লাহর পরবর্তী অবস্থান এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আলোচনার টেবিলে কতটা গুরুত্ব পায় সেটিই এখন দেখার বিষয়। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।