এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন। বর্তমানে এই যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তার এই নতুন বক্তব্য আগের সেই মন্তব্যের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে।
গত মাসেও ট্রাম্প বারবার বলে আসছিলেন যে এই সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে তবে এখন সেই সুর বদলে গেছে।সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে এই সংঘাত শেষ করার জন্য আদতে কোনো সময়সীমা নেই এবং এই ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের তাড়াহুড়ো করারও কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি তার সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে অনেকে মনে করছেন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চান যা মোটেই সত্য নয়। তবে এপি-এনওআরসি’র এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে যে জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে দাম বাড়তে থাকায় অর্থনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে একই সাথে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন দুই পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল। একই দিনে ইরান পাকিস্তানে পূর্বনির্ধারিত একটি আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ওয়াশিংটন যদি এভাবে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে তবে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়া সম্ভব নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি কোনো মানসিক চাপে নেই। তার প্রধান লক্ষ্য হলো আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক চুক্তি করা। ট্রাম্পের মতে সরাসরি বোমা হামলার চেয়েও নৌ-অবরোধ ইরানকে বেশি আতঙ্কিত করে তুলছে। তিনি জানান যে ইরান বহু বছর ধরে যুদ্ধের মুখে থাকলেও অর্থনৈতিক ও বন্দর অবরোধের বিষয়টি তারা সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে। মজার বিষয় হলো এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সম্পুর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। বেইজিংয়ে নিযুক্ত তেহরানের দূত আব্দলরেজা রহমানি ফাজলি বলেছেন যে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলতে থাকলে কোনোভাবেই সংলাপ সফল হবে না। তাদের মতে ওয়াশিংটন যা চাইছে তা কোনো আলোচনা নয় বরং সরাসরি আত্মসমর্পণ। ট্রাম্পের অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে অন্তত দুটি জাহাজ জব্দ করে নিজেদের বন্দরে নিয়ে গেছে যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন