এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
যান চলাচল সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার সম্পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া এক বক্তব্যে এই সমর্থন ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ‘ভণ্ডামি’ এবং ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে নেবেনজিয়া অভিযোগ করেন যে, পুরো দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় কোনো উপকূলীয় দেশ আক্রান্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজ জলসীমায় জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির অংশ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
পশ্চিমা দেশগুলোকে জলদস্যুদের সঙ্গে তুলনা করে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় সমর্থন দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো আইন লঙ্ঘন করছে।
তার মতে, পশ্চিমা দেশগুলো তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করছে।এদিকে রাশিয়া সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিশেষ বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠককালে পুতিন উল্লেখ করেন যে, ইরান বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দেশটির জনগণ এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এবং শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইরানের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আব্বাস আরাগচি। বৈঠকের পর তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধ ইরানের লড়াই এবং বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান অব্যাহত থাকবে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। সরাসরি মাঠপর্যায় ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়ার এই প্রকাশ্য অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন