সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে অনুরোধ করেছে : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে অনুরোধ করেছে : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বর্তমানে ধ্বংসের মুখে রয়েছে এবং তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান আমাদের জানিয়েছে যে তারা ধ্বংসের মুখে রয়েছে। 

তাই তারা চায় আমরা যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দিই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের নেতৃত্ব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো যখন খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। 

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ট্রাম্পকে এই প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরানের ওই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত বা স্থায়ী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান শর্ত দিয়েছে যে, সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরই তারা পারমাণবিক আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী।

ওয়াশিংটনের জন্য বড় চিন্তার কারণ হলো, ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি প্রধান ইস্যু হিসেবে দেখে আসছেন। ফলে পারমাণবিক আলোচনার বিষয়টি অস্পষ্ট রেখে অবরোধ প্রত্যাহারের এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় এবং ইরানের ওপর অবরোধের ফলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।