মে ৭, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ভারতের সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসলামাবাদে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ শরিফ চৌধুরী পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সামরিক সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শিফাত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী উপস্থিত ছিলেন।
জেনারেল শরিফ গত বছরের পহেলগাম হামলার পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’-এর প্রেক্ষাপটে দশটি কৌশলগত ফলাফল ব্যাখ্যা করেন।
সেনা মুখপাত্র জানান, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুমাত্রিক অভিযানের মাধ্যমে বড় শত্রুকে পরাজিত করেছে। তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতের প্রথম ফলাফল হলো পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে তুলে ধরার ভারতের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পহেলগাম ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তান যে প্রশ্নগুলো তুলেছিল, ভারত তার কোনো উত্তর দিতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেনারেল শরিফ ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ভারতের সামরিক বাহিনীকে বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, আগে ভারতীয় বাহিনী পেশাদার থাকলেও এখন তা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য যুদ্ধ উসকে দেওয়ার মতো এবং এটি এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আড়াল করতে বাইরের ইস্যুকে ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। সেনা মুখপাত্র বলেন, সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন ভারতের অভ্যন্তরীণ সংকট, যা তারা পাকিস্তানের ওপর দায় চাপিয়ে ঢাকতে চায়। তিনি কাশ্মীরকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বিরোধ মেটানো যাবে না।
যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের সুযোগ আছে বলে যারা মনে করে, তারা ভুল করছে। তবে কেউ যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চায়, তবে পাকিস্তানের অঙ্গীকার নিয়ে কারও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যাতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, সেনাবাহিনীর রকেট ফোর্স কমান্ড, যুদ্ধ ট্যাংক এবং উন্নত ড্রোন ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল শিফাত আলী জানান, সংঘাত চলাকালে পাকিস্তান নৌবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় তৎপরতা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছিল। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভারতীয় বিমানবাহী রণতরী ‘বিক্রান্ত’ ধ্বংস করতে প্রস্তুত ছিল। পরিশেষে জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না, তবে সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে আত্মরক্ষা করতে জানে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্যের মাধ্যমেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন