সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্বর্ণ না কেনার পরামর্শ দিয়ে যা বললেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১১:২১ এএম

স্বর্ণ না কেনার পরামর্শ দিয়ে যা বললেন মোদি

মোদির বিশেষ বার্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধে তিনি এই কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শ দেন। 

রোববার এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদি স্পষ্ট করে বলেন যে দেশের অর্থনীতির চাকা মজবুত রাখতে হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা বর্জন করতে হবে। এই কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ভারতীয়দের আগামী অন্তত এক বছর বিয়ের জন্য স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের মতো একটি দেশে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে যেখানে বিয়েতে স্বর্ণ কেনা একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।মোদি তার বক্তব্যে আরও বলেন যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় মানুষ যেভাবে ঘরে বসে কাজ বা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মতো ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল এখন আবার সেই চর্চায় ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। 

তার মতে প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল সময় সাশ্রয় করে না বরং জাতীয় স্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি জনগণকে এই ব্যবস্থাকে আবার অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো এখন সময়ের দাবি এবং এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।জ্বালানি ও স্বর্ণের পাশাপাশি ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমানো এবং আমদানিনির্ভর রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের কথাও বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি মনে করেন রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে এনে প্রাকৃতিক কৃষির দিকে গুরুত্ব দিলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে তেমনি কৃষিজমি ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। মূলত বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বৈদেশিক আমদানির ওপর চাপ কমানোই মোদি প্রশাসনের বর্তমান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী ও ব্যতিক্রমী আহ্বান ভারতের অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষ এটি কতটা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।