শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির কূটনৈতিক চেষ্টা যেভাবে ব্যর্থ হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৩১, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির কূটনৈতিক চেষ্টা যেভাবে ব্যর্থ হলো

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান এবং কৌশলগত লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ একঘরে করা। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এবং ২০১৬ সালের উরি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর থেকে দিল্লির এই নীতি বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। 

দিল্লির মূল কৌশল ছিল বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো চিরতরে সীমিত করে দেওয়া।তবে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ভারতের এই দীর্ঘ এক দশকের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার এই একমুখী ভারতীয় কৌশল শেষ পর্যন্ত দিল্লির জন্যই উল্টো বুমেরাং হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। 

ভারতের এই একঘরে করার নীতি ব্যর্থ হওয়ার প্রধানতম কারণ হলো পরাশক্তি চীনের সাথে ইসলামাবাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক গভীরতা ও অংশীদারিত্ব ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীন-অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপেক প্রকল্প পাকিস্তানের অর্থনীতিতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগের এক বিশাল নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে যোগাযোগ ও শক্তি খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন করার পাশাপাশি বেইজিংয়ের মজবুত কূটনৈতিক সমর্থন বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

কেবল চীন নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোও পাকিস্তানকে কখনো পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেনি।আফগানিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার কারণে ওয়াশিংটন সবসময় ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানের সাথেও সুকৌশলে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। 

একই সাথে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর সাথে রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারভিত্তিক শক্তিশালী সংযোগ পাকিস্তানকে চরম আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে পুরোপুরি রক্ষা করেছে। আজকের এই বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কোনো একটি একক রাষ্ট্রের পক্ষে অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পূর্ণ কোণঠাসা বা বয়কট করা যে একেবারেই অসম্ভব, মোদি সরকারের এই ব্যর্থ নীতি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।