রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ৭, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় লেবাননজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই নতুন করে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খারদালি-নাবাতিয়েহ সড়কে একটি সামরিক যানবাহনের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ওই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

গত কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতির কয়েক দিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উদ্বেগ ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলার পর লেবাননের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। লেবানন সরকার এখনো এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, এই ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। খারদালি-নাবাতিয়েহ সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলার নিন্দা জানানো হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি যে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলায় ১২ জন নিহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটিতে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

শনিবারের এই হামলার পর লেবাননের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে। সীমান্তে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে।

ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যকার সীমান্তে প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা একটি আশার আলো দেখিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে এই প্রাণহানির ঘটনা শান্তি আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলল।