মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বিশ্ব জ্বালানি বাজার

তেলের দাম চারদিন কমার পর বিশ্ববাজারে সামান্য বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

তেলের দাম চারদিন কমার পর বিশ্ববাজারে সামান্য বাড়ল

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চারদিন পতনের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, টানা দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এর প্রভাবেই মূল্যে এই পরিবর্তন। একই সাথে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের ফিউচার চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ২২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবরে সরবরাহের ডব্লিউটিআই ফিউচার চুক্তির দাম দুই সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে, যার মেয়াদ মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে। বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই চুক্তির দাম ১৩ সেন্ট বা দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে থাকে প্রায় ১৫৮ দশমিক ৯৯ লিটার। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি দর বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৩৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭৭ দশমিক ৮০ টাকা। নভেম্বরে সরবরাহের ডব্লিউটিআইয়ের প্রতি লিটারের দাম পড়ছে প্রায় ৭১ টাকা। তবে এটি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আনুমানিক দর। স্থানীয় পাম্পে জ্বালানি তেলের খুচরা দাম নির্ধারণে পরিবহন, কর, শুল্ক ও পরিশোধন ব্যয় যুক্ত হয়। জ্বালানি তেলের দামকেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর তেলের এই দাম বৃদ্ধিকে মূলত ঝুঁকি কমানোর প্রবণতা বা শর্ট-কভারিং হিসেবে দেখা যায়। এটি বাজারে মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয় এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত দর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। রিয়াদ ও সৌদি আরামকোর ইয়ানবু স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এর ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায় সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বাড়িয়েছে। ট্যাংকার ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, রোববার উপসাগরে সাতটি সুপারট্যাংকারে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল তোলা হয়েছে। অন্যদিকে লিবিয়ার শারারা তেলক্ষেত্রে উৎপাদন আংশিক কমে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন।