সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন: ৭ লাখের বেশি কর্মীকে ছুটিতে পাঠানোর শঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৫, ০২:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন: ৭ লাখের বেশি কর্মীকে ছুটিতে পাঠানোর শঙ্কা

ছবি - সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সেটাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটরা মধ্যরাতের সময়সীমার আগে নতুন একটি ব্যয় পরিকল্পনায় একমত হতে না পারায় বুধবার থেকে শুরু হয়েছে সরকারি শাটডাউন বা অচলাবস্থা। এই অচলাবস্থা শুরুর পর হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দুই দিনের মধ্যেই ৭ লাখের বেশি ফেডারেল কর্মী বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের ব্যাপকহারে ছাঁটাই করা শুরু হবে।

এই অচলাবস্থা শুধু কর্মসংস্থান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।অচলাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই প্রধান দল একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক খেলা খেলার অভিযোগ করছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট জানিয়েছেন, "মাঝে মাঝে আপনাকে এমন কিছু করতে হয় যা আপনি চান না।

ডেমোক্রেটরা আমাদের এই পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।" অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ডেমোক্রেটদের উদ্দেশে বলেন, "যদি আমেরিকান জনগণের ওপর এর প্রভাব নিয়ে এতোই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে তাদের সরকারের কর্মকাণ্ড আবার চালু করা উচিত।"তবে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্রেট সদস্য চাক শুমার এর আগেই রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে হয়রানি করার অভিযোগ করেছিলেন।

ডেমোক্রেটরা স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থায়নের গ্যারান্টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে ব্যয় চুক্তিতে একমত হতে রাজি নয়।এই অচলাবস্থা বন্ধের জন্য একটি ভোট করার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে এবং তখন থেকেই সিনেট মুলতুবি রয়েছে, যা অচলাবস্থাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।রিপাবলিকানরা সরকার চালু রাখতে একটি অস্থায়ী স্টপ গ্যাপ বা বিরতি ব্যবস্থা চায়, যেটি মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত বর্তমান হারে তহবিল দেবে।

কিন্তু ডেমোক্রেটদের দাবি, নিম্ন আয়ের আমেরিকানদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুরক্ষা নিশ্চিত করেই সমঝোতায় আসতে হবে।রিপাবলিকানদের সমঝোতা বর্জন করার এই মানসিকতা নিয়ে কানেকটিকাটের ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস মারফি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন অবশ্য বলেছেন, ডেমোক্রেটরা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আমেরিকান জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে।

পহেলা অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর শুরু হয়। এই সময়ের আগে চুক্তিতে না পৌঁছানো গেলে শাটডাউন তৈরি হয়। এর ফলে:অপরিহার্য নয় এমন সরকারি কর্মীদের বিনা বেতনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।স্বল্প সময়ের জন্য সীমান্তের এজেন্ট ও সেনাবাহিনীসহ অপরিহার্য কর্মীদের বেতন ছাড়াই কাজ করতে হবে।এই অচলাবস্থা কতদিন চলে, এবং দুই পক্ষ কবে সমঝোতায় আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।