অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৮:৪১ পিএম
আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টারকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর প্রদেশে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সামলাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে, সেই কারণে আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রশাসনের মূল উদ্বেগ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও উসকে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষত ফেসবুক, ইউটিউব ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিজিটাল যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে।
আই লাভ মুহাম্মদ’ বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত ৪ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলের সময়। কানপুরে মিছিলের পথে একটি তাঁবুতে এই লেখা পোস্টার ঝোলানো হয়। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো অভিযোগ তোলে যে ওই জায়গাতেই রামনবমীর মতো হিন্দু উৎসব হয়, তাই এই পোস্টার ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে।
এরপর থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।অন্যদিকে, মুসলিমরা অভিযোগ করেন, নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করায় তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে।বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ পর বারানসিতে পাল্টা কর্মসূচি শুরু হয়। ধর্মীয় নেতারা ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ পোস্টারের প্রতিবাদে ‘আই লাভ মহাদেব’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন।
পরবর্তীতে রাজ্যটির একটি মসজিদের সামনে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই হাজার মানুষের জমায়েত ঘটে। জুমার নামাজের পর এই জমায়েত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে।
উত্তেজনা প্রশমনে ব্যর্থ ধর্মীয় নেতা তৌকির রাজা খানের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিলের পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই মুসলিম। তৌকির রাজা খানসহ তাঁর একাধিক সহযোগী ও আত্মীয়কেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১৮০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২,৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। উৎসবকালীন জনসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছেন। স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্টেবলারি ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় চলছে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন