সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ নভেম্বর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ নভেম্বর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ২৭ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে গতকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) এই মামলায় সাজু রায় নামে এক শিক্ষার্থী ২০ নম্বর সাক্ষ্য দেন। রংপুর শহরের ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এখন চাকরিপ্রত্যাশী।

সাজু রায় তার জবানবন্দিতে ১৬ জুলাই ২০২৪-এর মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি রংপুর প্রেস ক্লাবে যান।

সেখানে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এলে তিনি তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মিছিলের পেছনে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওনা হন।সাজু বলেন, "ঐদিন দুপুর দেড়টায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে পৌঁছাই। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ। ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের কথাবার্তা চলছিল। হঠাৎ আমাদের ওপর আক্রমণ চালান তারা। সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপসহ লাঠিচার্জ করতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা।"

তিনি জানান, ছাত্ররা আহত হলে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে আবার গেটে অবস্থান নেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় গেটের ভেতর থেকে পুলিশ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দিকে তেড়ে আসেন।সাজু রায়ের জবানবন্দির সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল— "ওই সময় পুলিশ আমাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলি ছুড়তে থাকলে ফের পালানো শুরু করি। কিন্তু একটি ছেলে, (যার নাম আবু সাঈদ) ওই স্থানে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকেন।

তখন গুলি করে পুলিশ। আবু সাঈদ নিজের হাতে থাকা লাঠি নাড়িয়ে রক্ষার চেষ্টা করেন। পরে রোড ডিভাইডার পার হয়ে পড়ে যান তিনি।"সাজু রায় বলেন, এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে তুলে পার্কের মোড়ের দিকে নিয়ে আসেন। তিনি ও আরও দুজন মিলে রক্তাক্ত আবু সাঈদকে একটি রিকশায় তুলে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।