সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আবু সাঈদ হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তার তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৩:০৬ পিএম

আবু সাঈদ হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তার তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল সোমবার এই সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।

মামলার ২৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এদিন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনিত নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত দায় ও অপরাধের বিবরণ উপস্থাপন শেষ করেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর তার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল যা আজ সোমবার পর্যন্ত চলমান ছিল। তবে সাক্ষ্য প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া এখনও সমাপ্ত না হওয়ায় আদালত আগামী ৬ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করার সুযোগ পাবেন।আবু সাঈদ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জন আসামি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। মামলার বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন যাদের ধরতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে। এদিকে আবু সাঈদের পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ ছাত্র সমাজ এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর এই মামলায় বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান এবং তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ৯ ডিসেম্বর মামলার ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও পুরো ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করেন। বিচারিক প্যানেল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করছেন যা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।