সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আবু সাঈদ হত্যা মামলার তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

আবু সাঈদ হত্যা মামলার তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক আজ

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলার ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ সকাল থেকেই এই শুনানি গ্রহণ করবেন। 

প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার যাবতীয় তথ্য উপাত্ত প্রমাণাদি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক তুলে ধরা হবে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। ওইদিন তিনি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তদন্ত কর্মকর্তার জব্দ করা বিভিন্ন আলামত ও নথিপত্র উপস্থাপন করেন।

 প্রসিকিউশন দাবি করেছে যে এখন পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত সব ভিডিও ফুটেজ এবং নথিপত্রে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই মূলত এই মামলার বর্তমান চূড়ান্ত ধাপটি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের এই যুক্তিতর্ক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সওয়াল জবাব ও পাল্টা যুক্তিতর্ক তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আবু সাঈদ হত্যার এই মামলাটি জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত ট্রাইব্যুনালের অন্যতম আলোচিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।আজকের আদালতের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন প্রসিকিউশন যদি তাদের সংগৃহীত ডিজিটাল এভিডেন্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সঠিকভাবে সমন্বয় করতে পারে তবে খুব শীঘ্রই এই মামলার রায়ের দিনক্ষণ জানা যেতে পারে। পুরো দেশবাসী এখন সাঈদ হত্যার বিচারিক এই ধাপের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে কারণ এই বিচারের ওপর ভিত্তি করেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যান্য হত্যা মামলার বিচারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হতে পারে।