এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার আরও ৩০ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায় ঘোষণার সময় তারা দুজনেই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।জুলাই আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ হত্যার এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। মামলার নথিপত্র ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে আদালত আটজন আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ বাচ্চু এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বেল্টু। এছাড়া গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ ও তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকেও একই মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানান, আবু সাঈদ নিরস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও তার ওপর আক্রমণ ছিল অমানবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল আরও ১১ জন আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই তালিকায় পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন ও মো. আবু মারুফ হোসেন টিটুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীমের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মোট ৯ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএলএসএস এবং সিকিউরিটি গার্ডও রয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম আসামি আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাসকেই তার সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হবে। রায় ঘোষণার শুরুতে আদালত আবু সাঈদের বীরত্ব ও ত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন