এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বড় সিদ্ধান্ত জানালেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ বাচ্চুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় পুলিশের সাবেক দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ মোট ৩০ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সাবেক উপাচার্য ছাড়াও বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকেও ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এই রায় ঘোষণার সময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। রায় দেওয়ার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য—সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আবু সাঈদ হত্যার এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে। তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি লড়াই শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো। বেরোবি ছাত্রলীগের আরও পাঁচজন নেতাকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্য দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সাঈদের সেই আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে একটি সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পর আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে থেকে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উসকানি বা সহযোগিতার দায়ে সাবেক ভিসির এই সাজা শিক্ষাঙ্গনে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন