নভেম্বর ২, ২০২৫, ১১:১১ এএম
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের ওপর ষষ্ঠ দিনের শুনানি শুরু হয়েছে। রোববার (০২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।আদালতে আজ ইন্টারভেনর (হস্তক্ষেপকারী) হিসেবে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।এর আগে গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে এই আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল। শুনানির প্রথম দুই দিন রিটকারী ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আবেদন করেন। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আরও অনেকে পৃথকভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
সেইসব আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদনের পরিবর্তে মূল আপিলটিই পুনরায় শোনার অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন। এরই ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত মামলাটি পুনরায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিতে ওঠে।
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মন্তব্য করেছিলেন যে, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে কোনো ‘সাময়িক সমাধান’ দিতে চায় না। বরং নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি ‘কার্যকর ও টেকসই সমাধান’ চায়, যাতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয় এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখতে পারে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন