আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় পাটুলী ইউনিয়ন সদরের সাড়ে তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নিসর্গ ধন্য এক গ্রামের নাম চকমখোলা। বিলঘেরা এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ হলো নজরকাড়া ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর এবং এখানকার বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতাপ্রীতি। চারপাশের ছিমছাম পরিবেশ ও কর্মমুখর জীবনযাত্রা গ্রামটিকে একটি অনন্য রূপ দিয়েছে।
এখানকার পরিবেশবান্ধব মাটির ঘরগুলো গরমের সময় ঠান্ডা ও শীতের সময় তুলনামূলক উষ্ণ থাকে। গ্রামটির বেশিরভাগ বাসিন্দা কৃষিজীবী হওয়ায় দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার কেন্দ্রে থাকে ধান, পাট ও আখের মতো নানা শস্য। নরসিংদী দেশজুড়ে সবজি ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে, যার অন্যতম অংশীদার এই গ্রামের কৃষকরা। এখানে ঘুষিঙ্গা জাতের লম্বা বেগুন থেকে শুরু করে উঁচু জমিতে জলডুগি বা হানিকুইন প্রজাতির আনারস ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। চারা রোপণের ২১ থেকে ২২ মাস পর কৃষকরা এই সুস্বাদু আনারস সংগ্রহ করেন, যা স্থানীয় হাটবাজার হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
কৃষিকাজের পাশাপাশি এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই হাঁস, মুরগি, ছাগল ও গরু পালন করা হয়। গ্রামের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক চকমখোলা বিল নামের নিচু জলাভূমি দিয়ে ঘেরা। বর্ষাকালে বেলাবোর গঙ্গাজুলী নদী থেকে এই বিলে পানি আসে, যা কৃষিকাজ ও দেশীয় প্রজাতির পাঁচমিশালি মাছ ধরতে সাহায্য করে।
স্থানীয়দের খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে নিজস্বতা। কন্দজাতীয় সবজি মানকচুর সঙ্গে বিলের মিঠা পানির পুঁটি মাছের ঝোল এখানকার মানুষের অন্যতম পছন্দের খাবার। মাটির চুলায় শুকনো পাতা ও ডালপালা পুড়িয়ে রান্না করা এসব গ্রামীণ খাবার ঐতিহ্য ও তৃপ্তির অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন