রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাসিনার সব অপকর্মের লাইসেন্স ওয়ান-ইলেভেন থেকে এসেছে : ফারুকী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

হাসিনার সব অপকর্মের লাইসেন্স ওয়ান-ইলেভেন থেকে এসেছে : ফারুকী

ফারুকীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

সেনা সমর্থিত এক-এগারো সরকারের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারকে বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি ভালো সূচনা বলে মন্তব্য করেন। 

ফারুকীর মতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক সংকটের মূলে ছিল এক-এগারোর সেই বিশেষ শাসন ব্যবস্থা যা পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ সুগম করেছিল।ফারুকী তার লেখায় এক-এগারো সরকারকে সকল সর্বনাশের গোড়া হিসেবে চিহ্নিত করেন। 

তিনি দাবি করেন শেখ হাসিনার শাসনামলে গত দেড় দশকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ যেমন গুম নির্যাতন বিডিআর হত্যাকাণ্ড শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সবশেষ জুলাই গণহত্যার মতো সব অপকর্মের লাইসেন্স মূলত ওই এক-এগারো থেকেই তৈরি হয়েছিল। তিনি ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং এর আদ্যোপান্ত তদন্ত করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ফারুকীর মতে ওই নির্বাচন ব্যবস্থার ধ্বংসযজ্ঞের শুরুটাও হয়েছিল একই উৎস থেকে যা গত ১৫ বছরে দেশকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছিল।

জাতীয় ট্রমা থেকে মুক্তি এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য বিচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই নির্মাতা। তিনি মনে করেন একটি জাতির সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অতীতের অন্যায়ের বিচার এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ অপরিহার্য। এটি মিউজিয়াম ডকুমেন্টেশন বা সরকারি রিপোর্টের মাধ্যমে হতে পারে। ফারুকী সতর্ক করে বলেন যে বিচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ অসমাপ্ত রেখে যদি সবকিছু ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় তবে তা দুটি বড় বিপদের জন্ম দিতে পারে। 

প্রথমত এটি নতুন অপরাধীদের উৎসাহিত করবে এবং দ্বিতীয়ত মানুষের যৌথ স্মৃতিতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে যাবে যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য আদর্শ অবস্থা নয়।ডিবি পুলিশ কর্তৃক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের পর ফারুকীর এই মন্তব্যটি দেশের বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

বিশেষ করে এক-এগারোর কুশীলবদের বিচার এবং বিগত সরকারের আমলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র অনুসন্ধানের দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। ফারুকী মনে করেন অপরাধীদের কেবল গ্রেপ্তার নয় বরং তাদের মাধ্যমে সৃষ্ট ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করাই হবে নতুন বাংলাদেশের প্রকৃত সার্থকতা। তিনি মনে করেন হিলিং বা জাতীয় ক্ষোভ প্রশমনের জন্য সত্যকে আড়াল না করে জনসমক্ষে আনা জরুরি।