এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল এবং দেশটিতে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের বিষয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই পরিস্থিতির বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আজহারি দাবি করেছেন যে তার সফর নিয়ে প্রচারিত সংবাদগুলো মূলত একটি বিদেশি প্রতিবেদনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা মাত্র।
গত পাঁচ দিন ধরে তিনি দেশটির মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি বলে জানান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল আজ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে চরমপন্থা এবং ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে অস্ট্রেলিয়া সরকার মাঝপথেই মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করেছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া একটি ভাষণে আজহারি অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ঐশ্বরিক শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
এই মন্তব্যের জেরে তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ ও ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে কড়া সমালোচনা করেছেন লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম। বর্তমানে তিনি সিডনিতে ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও দাবি করেছে গণমাধ্যমটি।তবে এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মিজানুর রহমান আজহারি। ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল এবং নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার পুরোনো ও বিচ্ছিন্ন কিছু বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে ধরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
তিনি মনে করেন তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং ইসলামের বার্তা প্রচারে ঈর্ষান্বিত হয়েই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এর আগেও যুক্তরাজ্য সফরে একই ধরনের ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে তার চলার পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তিনি স্মরণে আনেন।আজহারি তার পোস্টে আরও স্পষ্ট করেন যে তিনি সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তার বিভিন্ন আলোচনায় এই আদর্শ বারবার ফুটে উঠেছে।
সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যের জন্য তার ভিসা বাতিল হওয়ার তথ্যটি তিনি সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেন কারণ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকে তিনি কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেননি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন।বর্তমানে সিডনিতে অবস্থানরত এই ধর্মীয় বক্তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে তার অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ড. আজহারি মনে করেন এটি তার সফরের ওপর একটি পরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
যদিও অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি তবে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে আজহারির অস্ট্রেলিয়া সফর এখন এক জটিল আইনি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন