মে ৯, ২০২৬, ১০:২১ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বর্তমান রাজনীতিতে `ট্যাগিং কালচার` বা অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা এবং দলের অভ্যন্তরে আদর্শিক বিচ্যুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তাসনিম জারা তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, তাকে উদ্দেশ্য করে সম্প্রতি ‘লেঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড’ বাক্যটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
সেই সময় সভ্য সমাজে `জবাই করার` স্লোগানের প্রতিবাদ করায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ তাকে `জামাতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট` হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এমনকি তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আবার একই সুরে তাকে ‘শাহবাগী, বাম ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলা হচ্ছে। তাসনিম জারা মনে করেন, যারা ২০১৩ সালে নির্যাতিত ছিলেন, তারাই এখন এই ধরনের অপবাদ দেওয়ার চর্চা শুরু করেছেন। মূলত কারাবন্দি শিক্ষার্থী ইমির একটি পোস্ট শেয়ার করা এবং তার মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি স্ট্যাটাসে জানান।
এনসিপিতে যোগদানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তাসনিম জারা বলেন, অভ্যুত্থানের পর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে রাজনীতি হবে ‘পোস্ট-আইডিওলজিক্যাল’ বা আদর্শ-পরবর্তী। সেখানে ডান-বাম বা শাপলা-শাহবাগি ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে কদর্যতা সৃষ্টি করা হবে না। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে সমাজের বহু মত, পথ ও পেশার মানুষকে একত্রে এনে দেশ গড়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে এনসিপির রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে আসছে। নিজের মতের সাথে না মিললে যে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। তাসনিম জারার মতে, বর্তমানে নাস্তিক বা বিদেশি এজেন্ট শব্দগুলোকে অফিশিয়ালি পলিটিক্যাল টুল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রলীগ বা অন্য দল থেকে কেউ এনসিপিতে এলে তারা পবিত্র হয়ে যায়, কিন্তু বাইরে থাকলে তাদের অপবিত্র বা চাঁদাবাজ বলা হয় কেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনের সময় তাকে নাস্তিক ও বিদেশি এজেন্ট হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। যে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন মতকে দেশদ্রোহ বা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা। সেই একই ভাষা ও হুমকি যদি নতুন মোড়কে ফিরে আসে, তবে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নষ্ট হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পরিশেষে তাসনিম জারা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ২০১৩ সালেও নিজের মন্তব্য থেকে পিছু হটেননি এবং আজও হটবেন না। তার মতে, সভ্য সমাজে কাউকে বিনা বিচারে আটকে রাখা যায় না এবং ভিন্ন মতকে দেশদ্রোহ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। এই বিশ্বাসে তিনি অটল থাকবেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন। এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন