জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
দেশের ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছয়টি সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সুদীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মুরব্বিদের প্রতি এই উদাত্ত আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্বীনি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা সুরক্ষায় আত্মসংশোধনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় কওমি মাদরাসার ঐতিহাসিক অবদান অনস্বীকার্য।বিবৃতিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান ছাড়াই সম্পূর্ণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত দানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষাধিক এতিম ও দুস্থ শিশুর অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার ভার বহন করে আসছে।
তবে এর পাশাপাশি সম্প্রতি কিছু মাদরাসায় শিশুদের প্রতি শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুষ্টিমেয় কিছু নামধারী শিক্ষকের অপরাধের কারণে পুরো দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে অভিভাবক ও আলেম সমাজকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
মাদরাসাগুলোর শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং ভিকটিমদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য গোপনীয় হটলাইন সেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্লাসরুম ও আবাসিক বিভাগগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের অনাবাসিক রাখা, শিক্ষকদের আচরণ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নারী কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও একটি নির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার আহ্বান জানান তিনি।অভিভাবক ও জাতীয় বোর্ডগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন