অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম
দেশে ব্যবহৃত পাম ও সয়াবিন তেলে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০ গুণ বেশি হেভিমেটাল পারদ পাওয়া গেছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে মিডিয়া ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ‘রহস্যজনক’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাহবুব কবির মিলন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতেই এই ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ইস্যুটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।মাহবুব কবির মিলন তার পোস্টে লেখেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমা শাহীন ম্যাডামের নেতৃত্বে ১৫২১টি সয়াবিন ও পাম তেলের নমুনার ওপর করা এক গবেষণায় তেলে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০ গুণ বেশি মার্কারি (পারদ)
পাওয়া গেছে... এই যে রিসার্চ এবং জার্নাল পাবলিশ হলো, এরপর কারও মুখে, কারও কাছে, কোনো পত্রিকা কিংবা নিউজে এই নিয়ে কোনো আলাপ আলোচনা, ফিসফাস, হৈ-চৈ শুনেছেন!!”তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিএসটিআই কিংবা ফুড সেইফটি অথোরিটি কিংবা সরকার কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? নেয়নি। কারণ ব্যবসায়ী সংগঠন। মানুষ মরুক। ব্যবসা হোক। সরকারি কর্মকর্তাদের পকেট ভারী হোক। পত্র-পত্রিকার কামাই হোক। খবরদার, আমজনতা যেন জানতে না পারে।”
সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব দেশে হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এই হেভিমেটালের সংযোগ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “দেশে প্রায় চার কোটি কিডনি রোগী। আমাদের ২০-৩০ বছরের মানুষের যে মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক বেড়ে গেছে, সেটার প্রধান কারণ যে এই মার্কারি হবে না, সেটা কি নিশ্চিত বলতে পারেন?”
তিনি আরও জানান, কয়েক মাস আগেই তিনি বিএসটিআইকে চিঠি দিয়ে তেলের মান পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড পরিবর্তন করার এবং পরিশোধন প্রক্রিয়ায় ‘সিনথেটিক ক্লে’-এর পরিবর্তে ‘আর্থ গ্রেড ক্লে’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কারণ এই সিনথেটিক ক্লে-তেই হেভিমেটাল থাকে। কিন্তু তার সেই চিঠির কোনো সাড়া মেলেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন