নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
তাদের মতে, স্বাধীন বিচারব্যবস্থার এই রায় জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের পথে প্রথম ধাপ পেয়েছে।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতায় যে হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল, তার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পলাতক শেখ হাসিনা।
তারা দাবি করেন, এই হত্যাযজ্ঞে একশো তেত্রিশ শিশুসহ (১৩৩) হাজারো মানুষ নিহত হয়। তারা জোর দেন, রায় কার্যকরের মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। এই রায়ের মাধ্যমে ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের মীমাংসা হয়েছে এবং এটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের সাফল্য বলে তারা মন্তব্য করেন।
পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ইন্টারপোল ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। এছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেন, ভারত সহযোগিতা না করলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং সেই দায়ভার ভারত সরকারকেই বহন করতে হবে।
সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, শুধু জুলাইয়ের ঘটনা নয়—২০০৯ সালের পিলখানা হত্যা, আল্লামা সাঈদীর রায় পরবর্তী সহিংসতা, শাপলা চত্বরের ঘটনা, পল্টন ট্রাজেডি এবং গুম–খুন–বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধ রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। তারা বলেন, অতীতে কোনো স্বৈরশাসন জনগণের প্রতিরোধের মুখে টিকতে পারেনি; ভবিষ্যতেও ফ্যাসিবাদ কায়েমের যেকোনো প্রচেষ্টার একই পরিণতি হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন