নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:৩৯ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল একইসঙ্গে এই দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নামে দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে এই রায় ঘোষণার পর তাদের আইনি প্রতিকারের পথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, কারণ দুইজনই পলাতক রয়েছেন।ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, পলাতক থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান কামালের আপিল করার কোনো সুযোগ নেই।
ট্রাইব্যুনাল আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে যেতে হয়। কিন্তু এই আপিলের সুযোগ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশ্যই আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে,
অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হতে হবে। এর অর্থ হলো, আপিল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে তাদেরকে প্রথমে দেশে এসে আদালতে হাজির হতে হবে বা গ্রেফতার হতে হবে। পলাতক অবস্থায় তারা দেশের বাইরে বসে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামিকে হস্তান্তরের জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি এখন কূটনৈতিক ও আইনি চ্যানেলে নির্ভর করছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দেশে এনে রায় কার্যকর করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, এই রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষও চাইলে আপিল বিভাগে যেতে পারবে। এই রায় কার্যকর হলে তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিরল নজির।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন