ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৬:৪১ পিএম
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নির্বাচনি আমেজ ও জনসচেতনতা তৈরি করতে বিশেষ প্রচারণা শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ভোটের গাড়ি’ বা সুপার ক্যারাভানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এই উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন।
আসন্ন নির্বাচনে কোনো ভয়ভীতি থাকবে না; বরং নাগরিকরা সম্পূর্ণ নির্ভীকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন সরকার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে দেশের জনগণের মালিকানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে আগামী পাঁচ বছর এই দেশ কার দ্বারা পরিচালিত হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক আপনি নিজেই। নাগরিকরা যাতে তাদের পছন্দের যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বেছে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ১০টি ‘সুপার ক্যারাভান’ আজ থেকে যাত্রা শুরু করছে। এই গাড়িগুলো দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে বেড়াবে। তারা প্রতিটি ভোটারের দুয়ারে গিয়ে নির্বাচনের গুরুত্ব ও গণভোট সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবে। বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার এবং তরুণ সমাজ, তাদের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে নাগরিকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হবে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর ভোট দেওয়া। প্রধান উপদেষ্টা জানান যে গত নয় মাস ধরে দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের সাথে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এই সনদ তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার পরিকল্পনা যা দেশ ও রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে নিরাপদ রাখবে। গণভোটে যদি নাগরিকরা এই সনদ সমর্থন করেন, তবে তা দেশের টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রধান উপদেষ্টা তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে তাদের প্রশ্ন এবং বিচার-বুদ্ধিই গড়ে তুলবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও নতুন বাংলাদেশ।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতো উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এই প্রচারণা অভিযানটি মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটদান নিয়ে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে ভোটাধিকার কারো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত ও সাংবিধানিক অধিকার। নিষ্ক্রিয় না থেকে এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। এখন থেকে জেলা-উপজেলায় ক্যারাভানের এই যাত্রা গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন