ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১১:৫২ এএম
বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনো ব্যক্তি যদি কারাগার বা আইনি হেফাজতে থাকেন তবে তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন না। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এক নির্দেশনায় জানিয়েছে যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বন্দিরা তাদের ভোট প্রদান করতে পারবেন।
গত বুধবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা কারা মহাপরিদর্শকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে যেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হবে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী এই বিশেষ পদ্ধতিটিকে ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং বা আইসিপিভি নামে অভিহিত করা হচ্ছে যা বন্দিদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে।
এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষকে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে যার মাধ্যমে তারা ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি জেল বা হেফাজত কর্তৃপক্ষ ভোটারদের নিবন্ধন কাজ পরিচালনার জন্য দুইজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবেন। এই প্রতিনিধিরা আগ্রহী ভোটারদের তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করবেন এবং এরপর সেই তালিকা সিল ও স্বাক্ষরসহ নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র কারাগারে পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো খামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালট পেপার এবং একটি ফেরত খাম থাকবে।ভোটদানের গোপনীয়তা রক্ষায় জেল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে কারাগারের ভেতরেই গোপন কক্ষ বা বুথ তৈরি করে ভোটের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পোস্টাল ব্যালট পেপারে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না বরং কেবল বরাদ্দকৃত প্রতীক ও তার পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে।
তাই ভোটাররা যাতে সঠিক প্রার্থীকে চিনতে পারেন সেজন্য কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সংবলিত চূড়ান্ত তালিকা বন্দিদের সরবরাহ করতে হবে। ভোটাররা ব্যালট পেপারে তাদের পছন্দের প্রতীকের পাশে টিক চিহ্ন বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার আগে একটি ঘোষণাপত্রে নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে স্বাক্ষর করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।ভোট দেওয়া সম্পন্ন হলে ভোটাররা ব্যালট পেপার ও স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র নির্দিষ্ট খামে ভরে তা সিলগালা করবেন। এরপর সেই খামটি জেল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।
জেল কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব সেই খামগুলো নিকটস্থ ডাক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবেন। ডাক বিভাগ কোনো প্রকার ডাক মাশুল ছাড়াই অর্থাৎ সরকারি খরচে সেই খামগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছে দেবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে একজন বন্দিও তার নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন