ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ১১:৫৮ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই সনদ’ সংক্রান্ত গণভোটের যাবতীয় সরকারি প্রচারণা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ড. আলী রীয়াজ জানান যে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গণভোটের পক্ষে চলা সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা স্থগিত থাকবে।
উল্লেখ্য যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ ১৯টি মন্ত্রণালয় বর্তমানে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে দেশের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে শোকাতুর পরিবেশে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করছে।বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে আসে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে খালেদা জিয়ার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি গণভোটের প্রচার স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বেলা ১২টার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই ভাষণে তিনি রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে সরকারের গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। আপাতত জানাজা ও দাফন পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্রগুলো এই বিশেষ প্রচার থেকে বিরত থাকবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও এই শোকের মুহূর্তে প্রচারণার চেয়ে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন