জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ হলো গণভোট। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ও জবাবদিহিহীন শাসনের পর কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল দর্শন ছিল স্রেফ 'মুখ বদল' নয়, বরং রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। এই লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছিল 'জুলাই সনদ', যেখানে প্রায় সব রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রশ্নে নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল।
গণভোট নিয়ে কেন এই টানাপোড়েন? শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোটের জন্য আলাদা আয়োজনের কথা বললেও রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিশেষ করে বিএনপির আপত্তির মুখে সিদ্ধান্ত হয়—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসাথেই অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্যে গণভোটবিরোধী অবস্থান ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে 'গণভোটে না' প্রচারণার বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সিস্টেম পরিবর্তন বনাম ক্ষমতার পালাবদল গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের অর্থ হলো বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পক্ষে জনগণের রায়। যদি গণভোট প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হয় বা এটি সফল না হয়, তবে পুরোনো ব্যবস্থার ভেতরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে সরকার বদলাবে ঠিকই, কিন্তু সিস্টেম বদলাবে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে পুনরায় কর্তৃত্ববাদী পথে হাঁটার পথ উন্মুক্ত থাকে।
জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ ১৯৫২ ও ১৯৭১-এর মতো ২০২৪ সালও বাংলাদেশের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। জনগণ এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে চায়—কারা সত্যিকার অর্থে সিস্টেম পরিবর্তন চায় আর কারা কেবল ক্ষমতার পালাবদলে আগ্রহী।
গণভোটকে দুর্বল করার চেষ্টা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসে, তবে সেই 'জুলাই সনদ' কেবল একটি প্রতীকী নথিতে পরিণত হবে।
পরিশেষে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার পথ প্রশস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ কি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে যাবে, নাকি পুরোনো চক্রেই আবর্তিত হবে—তার উত্তর নির্ভর করছে গণভোটের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন