ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে কাজের একটি বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেছেন। রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে আনা আমূল পরিবর্তন ও বৈপ্লবিক সংস্কারের চিত্র ফুটিয়ে তোলেন।
আসিফ নজরুল তাঁর এই সফলতাকে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে না দেখে পুরো মন্ত্রণালয়ের একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সময়ে ২২টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক ও ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে যা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলেছে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দেওয়া তথ্যমতে গত দেড় বছরে সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর মধ্যে একটি হলো ২৪ হাজার ২৭৬টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার।
এর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে করা বিপুল সংখ্যক মামলা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রায় সব মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইনি সংস্কারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অধ্যাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা হয়েছে যেখানে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ জারির মাধ্যমে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে যা দেশের মানবাধিকার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিচার বিভাগের নিজস্ব কর্তৃত্বে ন্যস্ত করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশের মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে যার ফলে এখন থেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং অনলাইনে সমন জারির মতো আধুনিক পদ্ধতি চালু হয়েছে।
ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষে ই-ফ্যামিলি কোর্ট এবং ই-বাইলবন্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে যার মাধ্যমে জামিন প্রাপ্তির আগের ১৪টি ধাপকে কমিয়ে মাত্র একটি ধাপে নিয়ে আসা হয়েছে।আসিফ নজরুল জানান যে তাঁর মেয়াদে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের গতি আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত সরকারের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে মন্ত্রী পর্যায়ে নিষ্পত্তিকৃত নথির সংখ্যা এবং আইনি মতামত প্রদানের হার কয়েক গুণ বেশি।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো দেশের সব আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের জন্য নতুন একটি সংক্ষিপ্ত নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রবাসীদের সুবিধার্থে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধন এনে পাসপোর্ট ছাড়াই জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ দিয়ে আইনি কাজ করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচারের লক্ষে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন এবং রেকর্ড সংখ্যক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়টি রাষ্ট্রের আমূল সংস্কারে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন