রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিল্লি নয় সবার আগে বাংলাদেশ, তারেক রহমানের নতুন নীতি

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

দিল্লি নয় সবার আগে বাংলাদেশ, তারেক রহমানের নতুন নীতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক বিশেষ নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এমন একজন নেতাকে নির্বাচিত করেছে যিনি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্য বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন। 

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক বিশাল বিজয় অর্জন করেছে। বিশ্লেষকরা এই রায়কে বিগত দেড় দশকের দমনপীড়ন এবং ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে জনগণের স্পষ্ট জবাব হিসেবে দেখছেন।

হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার তাকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক জটিল সংকটের মুখে পড়েছে। 

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ব্যাপকভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। সে সময় ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ট্রানজিট সুবিধাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি বা সীমান্ত হত্যার মতো ইস্যুগুলো অবহেলিত রয়ে গিয়েছিল। এই ভারসাম্যহীন কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণেই দেশের ভেতরে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্রতর হয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এখন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন কোনো বিশেষ শক্তির ওপর নির্ভরশীল হবে না বরং জাতীয় স্বার্থই হবে প্রধান ভিত্তি। এরই মধ্যে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৪ বছরের স্থবির কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় সচল হয়েছে। করাচির সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দোলকটি আগে একতরফাভাবে ভারতের দিকে হেলে থাকলেও এখন বাংলাদেশ সব পক্ষের সাথে একটি বাস্তবসম্মত ও স্বাধীন সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া এখন আর কোনো একক শক্তির প্রভাব বলয় নয়। বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব এখন ভারত ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে ভারতের সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্ব বিবেচনা করে রহমান প্রশাসন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থান এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আগামী বহু বছর এই অঞ্চলে দেশটির প্রভাব ও মর্যাদা নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কার্যত, নতুন এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় এক আত্মবিশ্বাসী ও বলিষ্ঠ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। পুরোনো জোট ও অতিনির্ভরশীলতার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব শর্তে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব মূল্যায়ন করাই এখন ঢাকার মূল লক্ষ্য। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের নিবন্ধে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বমঞ্চে নিজের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রস্তুত, যেখানে সিদ্ধান্তগুলো বাইরের কোনো দেশের প্রত্যাশা নয় বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা হবে।